সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থী আসিফ হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে মাজারের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, এক পক্ষের দখলমুক্ত করার দাবি, অন্য পক্ষের প্রতিবাদ ঘাটাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অযত্ন-অবহেলায় সাগরদীঘি বিনোদন কেন্দ্র ধ্বংসের মুখে ঐতিহ্যের স্মৃতিচিহ্ন  টাঙ্গাইলে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন পুলিশ সুপার নাগরপুরে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী পালিত বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী টুকু আমাদের চলমান আন্দোলন-সংগ্রাম সরকার পতনের আন্দোলন নয়…. মাওলানা মামুনুল হক

ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে চলে সংসার

  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৩
  • ১০৯৪ বার দেখা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদক: বাঁশ আর দুটো রাবারের চাকা দিয়ে তৈরি মালবাহনের গাড়ি। আর এ গাড়ি টানতে সামনে থাকে একটি ঘোড়া। অল্প খরচের এ গাড়িই টাঙ্গাইলের মধুপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নির্বরশীল বাহন। এ সকল এলাকায় এ বাহনের নাম ঘোড়া গাড়ি। বেশিরভাগ বনভূমি এবং আঁকাবাঁকা কাঁচা রাস্তার প্রত্যন্ত এলাকায় দেখা যাবে এই মালবাহী ঘোড়া গাড়ির। বনভূমি আর দুর্গম উঁচু-নিচু পাহাড়ি কর্দমাক্ত লাল মাটির পথ মাড়িয়ে চলে পরিবহনের এই বাহন। ঘোড়ার গাড়িতে বহন করা যায় ২০ থেকে ২৫ মণ ওজনের মালামাল। তবে শক্তিশালী বড় তেজি ঘোড়ার গাড়িতে বহণ করা যায় আরও অধিক ওজনের মালামাল।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকার মো. আলাল উদ্দিন জানান, সন্তোষপুর বনে এক সময় শাল গজারিসহ অনেক বনজ গাছ ছিলো। কিন্তু বনদস্যুদের কারণে এখন আর আগের মত ঘন বন নেই। বনের পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণের মাঝে বন্টন করে নেওয়া হয়েছে সামাজিক বনায়নের উদ্যোগ। বর্তমানে ফলজ গাছ ও ফসল চাষাবাদও করা হচ্ছে এখানে। আর এ লাল মাটির পাহাড়ি বনভূমিতে উৎপাদিত আনারস, কলাসহ নানা জাতের ফল এবং কাঠ পরিবহনে এই এলাকায় একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি।

দোখলা এলাকার সামাদ মিয়ার সাথে কথা বলে জানা গেল, টাঙ্গাইলের ফুসফুস ক্ষ্যাত মধুপুরের শাল গজারির বন ছিলো যা এখন বিলুপ্ত প্রায়। বন খেকো আর অসাধু বন কর্মকর্তাদের দখলদারিতে  ক্ষত বিক্ষত শাল গজারির বন। এ বনে ভোর হতেই দেখা মিলতো ঘোড়া গাড়ির। ঘোড়া গাড়ি দিয়ে এ বন থেকে পাতা সংগ্রহ করে নিয়ে যেত দূর দূরান্তের কৃষক। এখন তা সচারাচর খুব কমই দেখা মিলে।

ঘোড়া গাড়ি চালক আব্দুল ছাত্তার তিনি ২ বছর আগে ৪ হাজার টাকায় একটি ঘোড়া ক্রয় করেন। লালন পালন করে বর্তমানে গাড়ি চালানোর উপযুক্ত করে তুলেছেন। সে ঘোড়ার গাড়িতে সপ্তাহে ৪-৫ দিন ক্ষ্যাপ (ভাড়া) থাকে। সে আয়েই চলে ৫ সদস্যের সংসার। তার ছেলে সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। অল্প আয়ের ছাত্তার ঘোড়া গাড়ির আয় দিয়ে পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতেই দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

ঘোড়ার গাড়ি নিয়ন্ত্রণকারীকে আঞ্চলিক ভাষায় গাড়িয়াল বলা হয়। কৃষক তার ফসল উঠিয়ে গাড়িয়াল বা চালককে অবগত করে আবার মালামাল বেশি হলে ঘোড়ার কয়েকজন গাড়িয়াল বা চালককে এক সঙ্গে ভাড়া নির্ধারণ করেন। লাল মাটির কর্দমাক্ত আঁকাবাকা মেঠোপথে ঘোড়ারগাড়ির সারি চলে মালামাল নিয়ে। শহরের বাবুদের কাছে মনোরম পরিবেশে নয়নাভিরাম দৃশ্য হলেও এ এলাকার মানুষের মালামাল বহনের একমাত্র ভরসা ঘোড়া গাড়ি

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme