সংবাদ শিরোনাম:
গোপালপুর পুরাতন পৌর চত্বরে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দের মৃত্যুর ঘটনা কমাতে মহাসড়ক পারাপারের জন্য  রোপওয়ে  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসাইলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও সার বিতরণ  ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে মধুপুরে বাবা-ছেলেসহ চার গারোর মর্মান্তিক মৃত্যু ধনবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশ জনতা সোচ্চার: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইলে আন্ডারপাসের দাবিতে আশেকপুরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগের প্রাথমিকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত টাঙ্গাইলের শরীফা হক

স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক

  • আপডেট : বুধবার, ৫ মে, ২০২১
  • ৯৮৭ বার দেখা হয়েছে।

প্রতিদিন প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে বাতাসে দুলছে সোনালি ধানের শীষ। যেদিকে চোখ যায় শুধু ধান আর ধান। প্রায় সব অঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে পুরোদমে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে নারী-পুরুষ, জোয়ান- বুড়ো সবাই ধান কাটা ও মাড়াইয় কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। সারা বছরের খোরাক তাদের স্বপ্নের এই ফসল। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই যত দ্রুত সম্ভব ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা।

অপরদিকে স্বপ্নের ফসল ঘরে তুললেও অনেক কৃষকের মনে এখনো দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। সারা দেশে করোনা মহামারি রোধে লকডাউন থাকায় ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না। লকডাউনের কারনে কৃষি শ্রমিকের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে ধান মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে অনেক কৃষকের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধান কেটে আঁটি বেঁধে রেখেছেন ক্ষেতের মাঝেই। পড়ন্ত বিকালে সেই আঁটি মাথায় কিংবা গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছেন কৃষকরা। বাড়িতে চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে ব্যস্ত রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় ১৭১২২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। সদর উপজেলায় ১৪২৩৬ হেঃ, বাসাইল ১১১২৫ হেঃ, কালিহাতী ১৮২৬০ হেঃ, ঘাটাইল ২৩৯৯৬ হেঃ, নাগরপুর ১৬১৫০ হেঃ, মির্জাপুর ২১০৬৫ হেঃ, মধুপুর ১২৭৯১ হেঃ, ভূয়াপুর ৭০৯৮ হেঃ, গোপালপুর ১৩৭৫০ হেঃ, সখিপুর ১৫৯২৫ হেঃ, দেলদুয়ার ৯৬৩০ হেঃ, ধনবাড়ী ১০২০০ হেঃ জমিতে এবং জেলায় ধানের মাঠে ১৪৩টি ধান কাটা মেশিন দিয়ে ধান কাটছে কৃষক।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গসংগঠন কেন্দ্রীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ দরিদ্র কৃষকের ধান কাটা কর্মসূচি দিয়েছে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলার নেতাকর্মীরা দরিদ্র কৃষকের পাকা বোরো ধান কেটে দেওয়া হচ্ছে।

মির্জাপুর পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আলাল উদ্দিন জানান, তার নিচু জমিতে আগাম চাষ করা ধানকাটা নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছেন। যে কোনো সময় বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টি হলে ধান পানির নিচে তলিয়ে যাবে। করোনার কারণে শ্রমিক আসতে না পারায় ধানকাটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কালিহতী উপজেলার পৌর এলাকার দরিদ্র কৃষক ফজলুল হক বলেন, ছাত্রলীগের এক দল নেতাকর্মীরা আমার ৪১ শতাংশ জমির ধান কেটে দিয়েছে। আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমি প্রান খুলে দোয়া করি আল্লাহ যেন তাদের মঙ্গল করেন।

কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের কস্তুরী পাড়া গ্রামে কৃষক আবুল হোসেন বললেন, আমি একশো শতাংশ জমিতে ২৮ ও ২৯ ধান চাষ আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছি। সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া থেকে ধান কাটার শ্রমিক এসেছে। প্রতিদিন ৫৫০ টাকা করে দিতে হবে শ্রমিক মজুরী

সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়ন কাতুলী গ্রামের দরিদ্র কৃষক ফজল মিয়া জানান, টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা তার জমির ধান কেটে দিয়েছে । তার ধান কেটে দেওয়াতে করোনা কালী সময় অনেক উপকার হয়েছে অনেকও খুশি হয়েছে ।

ঘাটালের আওলাত ধান মাড়াই মেশিনের মালিক দেওপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন জানান, কৃষকের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে ধান মাড়াই মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই করে দিয়ে আসে। তবে ঝড় বৃষ্টির হলে বাড়ী বাড়ী তার ধান মাড়াই মেশিন নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না
আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে দ্রুত সময়ে মধ্যে ধান ঘরে তুলছে পারবে এলাকার কৃষক।

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদুল হাসান জনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ধান কাটা কর্মসৃচীর অংশ হিসাবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দরিদ্র কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছি এবং ধান কাটা কর্মসুচি অব্যাহত থাকবে ইনশাল্লাহ।

টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন মানিক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় যুবলীগের ধান কাটা কর্মসৃচীর অংশ হিসেবে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছি এবং ধান কাটা কর্মসুচি অব্যাহত থাকবে।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme