সংবাদ শিরোনাম:
গোপালপুর পুরাতন পৌর চত্বরে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দের মৃত্যুর ঘটনা কমাতে মহাসড়ক পারাপারের জন্য  রোপওয়ে  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসাইলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও সার বিতরণ  ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে মধুপুরে বাবা-ছেলেসহ চার গারোর মর্মান্তিক মৃত্যু ধনবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশ জনতা সোচ্চার: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইলে আন্ডারপাসের দাবিতে আশেকপুরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগের প্রাথমিকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত টাঙ্গাইলের শরীফা হক

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধান কালচে রঙ ধারণ, কৃষকের স্বপ্ন তছনছ

  • আপডেট : রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ৬২৭ বার দেখা হয়েছে।

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: স্বপ্নের সোনালি ফসল বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে স্বপ্নে বিভোর ছিলেন কৃষকরা। মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই আনন্দ উৎসবে স্বপ্নের সোনালি ফসল বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতো তারা। কিন্তু সেই স্বপ্নকে তছনছ করে দিয়েছে একটি অপরিকল্পিত ইটভাটা। এতে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় কমপক্ষে ১০০ একর (৩০০ বিঘা) জমির আধাপাকা ধান পুড়ে যাচ্ছে। ধান নষ্টে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ১১৫ জন কৃষক দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এমন ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের গৌরিশ্বর এলাকায়। ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করেছেন এমএসটি ভাটার মালিক ফজলুল হক।

এদিকে ধান পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় গৌরিশ্বর ছাড়াও বিল গৌরিশ্বর ও দশআনি বকশিয়াসহ তিন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ইটভাটার চারপাশে বোরো ধান চাষ, তার মাঝে ইটভাটা। ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় আধাপাকা ধান কালচে রঙ ধারণ ও পাতাগুলো লালচে হয়ে গেছে। ফলে ব্যাপক পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্তের আশঙ্কা রয়েছে। গৌরিশ্বর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মজনু বলেন, ১০ হাজার টাকা সুদের ওপর নিয়ে বর্গায় জমি চাষ করছি। এখন আমি এ টাকা কেমনে শোধ করব আমার সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে গেছে। মামুন মিয়া নামের আরেক কৃষক বলেন, ৫ পাকি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে ৬০ হাজার টাকার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে ইটভাটার পাশেই রয়েছে দুই মাদ্র্রাসা, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেশ কয়েকটি মসজিদ। ওই ইটভাটার কালো বিষাক্ত ধোঁয়ার ফলে স্থানীয় লোকজনের মাঝেও দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ।

এ নিয়ে ইটভাটা বন্ধে ভাটার মালিক ফজলুল হককে বারবার জানালেও তিনি কোনো তোয়াক্কা করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় লোকজন। তবে এমএসটি ভাটার মালিক ফজলুল হক তালুকদার বলেন, কৃষকের ধান নষ্ট হওয়ার ঘটনা সঠিক। তবে এটা ভাটার কারণে না পোকার আক্রমণ বা অন্য কোনো কারণে হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত না। ইটভাটার কারণে ধানের ক্ষতি হলে প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক মিলন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাদের নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করেছি। আশা করি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত প্রতিকার পাবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, সরেজমিন বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিয়া চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme