সংবাদ শিরোনাম:
আমাদের চলমান আন্দোলন-সংগ্রাম সরকার পতনের আন্দোলন নয়…. মাওলানা মামুনুল হক গোপালপুর পুরাতন পৌর চত্বরে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দের মৃত্যুর ঘটনা কমাতে মহাসড়ক পারাপারের জন্য  রোপওয়ে  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসাইলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও সার বিতরণ  ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে মধুপুরে বাবা-ছেলেসহ চার গারোর মর্মান্তিক মৃত্যু ধনবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশ জনতা সোচ্চার: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইলে আন্ডারপাসের দাবিতে আশেকপুরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

খাবার অভাবে লোকালয়ে হনুমান: বনহারা প্রাণের নীরব আর্তনাদ

  • আপডেট : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১৮ বার দেখা হয়েছে।

প্রতিদিন প্রতিবেদক : বনাঞ্চলে খাদ্য সংকট তীব্র হওয়ায় লোকালয়ে নেমে এসেছে হনুমান ও বানর। হঠাৎ করেই গ্রাম ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিচরণে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও কৌতূহল। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মধ্যে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভূঞাপুর পৌর ও গ্রাম এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। হঠাৎই ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের ঝনঝনীয়া গ্রামের দোলোয়ার কাজী বাহির বাড়িতে লম্বা লেজ ওয়ালা একটি হনুমান ঘুরছে। উৎছুক লোকজন দেখতে আসায় লাফিয়ে লাফিয়ে এগাছ থেকে ওগাছে ছুটছে। মানুষের কৌতূহলী চোখ তার মাঝেই স্পষ্ট হয়ে উঠে খাবারের অভাবে বন ছেড়ে লোকালয়ে নেমে এসেছে বন্য প্রাণী। এর আগেও পৌরসভার ঘাটান্দী, ফসল আন্দী ভূঞাপুর বাজার এলাকায় এরকম দৃশ্য দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিক হনুমান ও বানর বাড়ির ফলমূল ও সংরক্ষিত খাদ্য নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ীর মানুষ ঘুমিয়ে পড়লে রাতের আধারে ঘরে হানা দিচ্ছে বানর ও হনুমান।
ঝনঝনীয়ার বাসিন্দা মিটুল জানান, “বনে খাবার না পেয়ে ওরা লোকালয়ে আসছে হয়তো। আমরা ভয় পাচ্ছি, আবার ওদেরকে চোখের সামনে দেখতে পেয়ে আনন্দও লাগছে। স্থানীয়দের কাছে এটি যেমন বিস্ময়ের, তেমনি ভীতিকরও।

পরিবেশ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বিচারে বন উজাড়, আবাসস্থল সংকোচন ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস কমে যাওয়াই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। বনভূমি ধ্বংসের প্রভাব এখন সরাসরি জনবসতিতে এসে পড়ছে।
সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে বন সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
খাবারের অভাবে লোকালয়ে হনুমানের আগমন কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়এটি পরিবেশ সংকটের এক স্পষ্ট বার্তা।
খাবারের সংকট ও বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে বিভিন্ন এলাকায় হনুমানের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক খাবারের উৎস হ্রাস পাচ্ছে। ফলমূল ও গাছপালা কমে যাওয়ায় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসছে। বনাঞ্চলে শিকারি বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণে তারা তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা খুঁজছে।
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দূরত্ব যত বাড়ছে, ততই সংকুচিত হচ্ছে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল। একসময় যে বনে ফলের প্রাচুর্য ছিল, আজ সেখানে গাছের সংখ্যা কমে এসেছে। উন্নয়ন, বসতি সম্প্রসারণ আর নির্বিচারে বন উজাড়—সব মিলিয়ে হনুমানের স্বাভাবিক খাদ্যচক্রে নেমে এসেছে বিপর্যয়।
ক্ষুধা বড় নির্মম বাস্তবতা। পেটের তাগিদে তাই বনহারা এই প্রাণীগুলো বাধ্য হচ্ছে মানুষের দরজায় কড়া নাড়তে।
লোকালয়ে আসা হনুমান কখনো শান্ত, কখনো আতঙ্কিত। মানুষ যদি তাদের তাড়ায় বা আঘাত করে, তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। আবার অনেকেই মায়ায় পড়ে খাবার দিয়ে অভ্যস্ত করে তোলেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের এক স্পষ্ট সংকেত—যেখানে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব এসে পড়ে আমাদের উঠোনেই। হনুমানের লোকালয়ে আগমন কেবল একটি সংবাদ নয়; এটি প্রকৃতির নিঃশব্দ প্রতিবাদ।
পরিবেশবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা সমাধানে বন সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস পুনরুদ্ধার জরুরি। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধিও প্রয়োজন। পরিবেশ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বিচারে বন উজাড়, আবাসস্থল সংকোচন ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎস কমে যাওয়াই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। বনভূমি ধ্বংসের প্রভাব এখন সরাসরি জনবসতিতে এসে পড়ছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুরের প্রশাসনের পরামর্শ বন্যপ্রাণীকে উত্ত্যক্ত না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলা উচিত।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme