সংবাদ শিরোনাম:
গোপালপুর পুরাতন পৌর চত্বরে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দের মৃত্যুর ঘটনা কমাতে মহাসড়ক পারাপারের জন্য  রোপওয়ে  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসাইলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও সার বিতরণ  ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে মধুপুরে বাবা-ছেলেসহ চার গারোর মর্মান্তিক মৃত্যু ধনবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশ জনতা সোচ্চার: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইলে আন্ডারপাসের দাবিতে আশেকপুরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগের প্রাথমিকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত টাঙ্গাইলের শরীফা হক

পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

  • আপডেট : সোমবার, ২৩ মে, ২০২২
  • ৫০৯ বার দেখা হয়েছে।

প্রতিদিন প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধির ফলে ডুবে যাচ্ছে পাকা ধান। আর জমিতে ভাসছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। সোমবার সকালে বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ও বাসাইল সদর ইউনিয়নের রাশড়া, মিরিকপুর, হান্দুলী, জিকাতলী পাড়া, সৈয়দামপুর, পৌলী, যৌতুকীতে গিয়ে দেখা যায়, হাঁটু পানিতে নেমে ধান কাটছে কৃষকরা। আবার কেউ কাটা ধান নৌকাযোগে উঁচু স্থানে তুলছে, কেউবা পানিতে ভাসমান অবস্থায় ছড়িয়ে থাকা কাটা ধানগুলো একত্রে করছে। অনেকেই আবার ধান মাড়াই করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ ৭১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে চাষ হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ভূঞাপুর, নাগরপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার ও বাসাইলের বিভিন্ন এলাকার জমিতে পানি প্রবেশ করেছে।

বাসাইল কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কৃষক প্রদীপ সরকার বলেন, দুই বছর আগে পানিতে ধান ডুবে গেছিল। এবছরও আমার জমিতে পানি ঢুকছে। এবছর ৩০০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ১ বিঘা জমি আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। আর ধান কাটতে ৮-৯ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এই ধান যদি ডুবে যায় আমরা কি খামু। আমরা বছরে দুইটা ফসল ফলাই। চকে সব ধান রয়ে গেছে। কি করুম কিছু বুঝতাছি না। দুই-তিনদের মধ্যে পানি এসে পরলো। ধান কাটা এখনো শেষ করতে পারি নাই। ১ হাজার থেকে ১২শত টাকা করেও শ্রমিক পাওয়া যায় না। জিকাতলী পাড়া গ্রামের চাষী সাধন সরকার বলেন, আমার প্রায় জমিতে পানি উঠেছে। শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতেছি। এক হাজার টাকা মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে উঁচু জমি গুলোতে পানি উঠে যাবে। আর নিচু জমির ধান না কাটতে পারলে ডুবে যাবে। বাতাসে ধান নুয়ে গেছে। ধানের দাম কম আর শ্রমিকের দাম বেশি। একদিকে শ্রমিকের দাম বেশি আরেক দিকে জমিতে পানি উঠেছে। খাওয়ার জন্য তো ধান কাটতে হবে। ধান যদি না কাটতে পারি বউ পোলাপান নিয়ে কিভাবে বাঁচবো। আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। এবছর ২৫০ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছিলাম। কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বিজয় সরকার বলেন, জমিতে পানি উঠেছে, হাঁটু জলের মধ্যে ধান কাটতেছে। যদি ধান না কাটতে পারি তাহলে জমির ধান ডুবে যাবে। ১২০০ টাকা করে শ্রমিক তাও পাওয়া যায় না। যেভাবে জল বৃদ্ধি পাচ্ছে উঁচু জমিতেও জল উঠবে। এবার ধান আবাদে করে কৃষক লোকসানের মুখে পরবে। এ ধান যদি ডুবে যায় তাহলে আমরা কি খাবো। আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme