সংবাদ শিরোনাম:
ঘাটাইলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন গোপালপুরে বিনামূল্যে ৪ টি হতদরিদ্রের পরিবারের মাঝে বকনা গরু বিতরণ  টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থী আসিফ হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন সিরাজগঞ্জে মাজারের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব, এক পক্ষের দখলমুক্ত করার দাবি, অন্য পক্ষের প্রতিবাদ ঘাটাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অযত্ন-অবহেলায় সাগরদীঘি বিনোদন কেন্দ্র ধ্বংসের মুখে ঐতিহ্যের স্মৃতিচিহ্ন  টাঙ্গাইলে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন পুলিশ সুপার নাগরপুরে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী পালিত

পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

  • আপডেট : সোমবার, ২৩ মে, ২০২২
  • ৫৩২ বার দেখা হয়েছে।

প্রতিদিন প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধির ফলে ডুবে যাচ্ছে পাকা ধান। আর জমিতে ভাসছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। সোমবার সকালে বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ও বাসাইল সদর ইউনিয়নের রাশড়া, মিরিকপুর, হান্দুলী, জিকাতলী পাড়া, সৈয়দামপুর, পৌলী, যৌতুকীতে গিয়ে দেখা যায়, হাঁটু পানিতে নেমে ধান কাটছে কৃষকরা। আবার কেউ কাটা ধান নৌকাযোগে উঁচু স্থানে তুলছে, কেউবা পানিতে ভাসমান অবস্থায় ছড়িয়ে থাকা কাটা ধানগুলো একত্রে করছে। অনেকেই আবার ধান মাড়াই করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে এক লাখ ৭১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে চাষ হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ভূঞাপুর, নাগরপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার ও বাসাইলের বিভিন্ন এলাকার জমিতে পানি প্রবেশ করেছে।

বাসাইল কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কৃষক প্রদীপ সরকার বলেন, দুই বছর আগে পানিতে ধান ডুবে গেছিল। এবছরও আমার জমিতে পানি ঢুকছে। এবছর ৩০০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ১ বিঘা জমি আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। আর ধান কাটতে ৮-৯ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এই ধান যদি ডুবে যায় আমরা কি খামু। আমরা বছরে দুইটা ফসল ফলাই। চকে সব ধান রয়ে গেছে। কি করুম কিছু বুঝতাছি না। দুই-তিনদের মধ্যে পানি এসে পরলো। ধান কাটা এখনো শেষ করতে পারি নাই। ১ হাজার থেকে ১২শত টাকা করেও শ্রমিক পাওয়া যায় না। জিকাতলী পাড়া গ্রামের চাষী সাধন সরকার বলেন, আমার প্রায় জমিতে পানি উঠেছে। শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতেছি। এক হাজার টাকা মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে উঁচু জমি গুলোতে পানি উঠে যাবে। আর নিচু জমির ধান না কাটতে পারলে ডুবে যাবে। বাতাসে ধান নুয়ে গেছে। ধানের দাম কম আর শ্রমিকের দাম বেশি। একদিকে শ্রমিকের দাম বেশি আরেক দিকে জমিতে পানি উঠেছে। খাওয়ার জন্য তো ধান কাটতে হবে। ধান যদি না কাটতে পারি বউ পোলাপান নিয়ে কিভাবে বাঁচবো। আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। এবছর ২৫০ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছিলাম। কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বিজয় সরকার বলেন, জমিতে পানি উঠেছে, হাঁটু জলের মধ্যে ধান কাটতেছে। যদি ধান না কাটতে পারি তাহলে জমির ধান ডুবে যাবে। ১২০০ টাকা করে শ্রমিক তাও পাওয়া যায় না। যেভাবে জল বৃদ্ধি পাচ্ছে উঁচু জমিতেও জল উঠবে। এবার ধান আবাদে করে কৃষক লোকসানের মুখে পরবে। এ ধান যদি ডুবে যায় তাহলে আমরা কি খাবো। আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme