সংবাদ শিরোনাম:
গোপালপুর পুরাতন পৌর চত্বরে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দের মৃত্যুর ঘটনা কমাতে মহাসড়ক পারাপারের জন্য  রোপওয়ে  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসাইলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও সার বিতরণ  ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে মধুপুরে বাবা-ছেলেসহ চার গারোর মর্মান্তিক মৃত্যু ধনবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশ জনতা সোচ্চার: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইলে আন্ডারপাসের দাবিতে আশেকপুরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগের প্রাথমিকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত টাঙ্গাইলের শরীফা হক

ঘাটাইলে ৫৬টির মধ্যে ৪৮টি ইট ভাটাই অবৈধ ভাবে চলছে

  • আপডেট : সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ১৩৬৬ বার দেখা হয়েছে।

প্রতিদিন প্রতিবেদক: আইনের কোন তোয়াক্কা না করে পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই ভাটা মালিকরা ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রায় ৫৬টি ইট ভাটা রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৮টি ভাটার লাইসেন্স রয়েছে। বাকি ৪৮টি ইট ভাটার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। এদের মধ্যে কারো লাইসেন্স নেই, কারো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই, কেউ সংরক্ষিত বনের পাশে, ফসলি জমিতে এবং বিদ্যালয়ে পাশে গড়ে তুলেছেন ইটভাটা। কেউ পাহাড়ের লাল মাটি দিয়ে ইট প্রস্তুত করছে, কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছেন। এক কথায় কোন আইন মানছেন না ভাটা মালিকরা তবুও চলছে ইটভাটা।

টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তত করা ও পোড়ানোর কোন সুযোগ নেই। আইন অমান্য করলে ভাটা মালিককে ২ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডই হতে পারে। কিন্ত আইনের কোন তোয়াক্কা না করে পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই ভাটা মালিকরা ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, সরকারি বা ব্যক্তিগত বন, অভয়ারণ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন, বাগান বা জলাভূমিতে ইটভাটা স্থাপন না করার বিধান রয়েছে। তারপরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা উচ্চ আদালতে রিট করেই চালাচ্ছে এসব ইটভাটা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটাইল উপজেলার চানতারা, ধলাপাড়া, দেউলাবাড়ি, জামুরিয়া, সিংগুরিয়া, রসুলপুর, মোগলপাড়া বীরসিংহ এলাকার ইট ভাটাসহ অধিকাংশ ইট ভাটাই স্থাপন করা হয়েছে কৃষিজমি, সংরক্ষিত বন, আবাসিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায়। কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও ইট ভাটা গুলোতে অহরহ পোড়ানো হচ্ছে সংরক্ষিত বনের কাঠ। ইট প্রস্তুতের জন্য পাহাড়েরর লাল মাটি ও ফসলি জমির মাটি ব্যবহারের বিধান না থাকলেও ইট ভাটা গুলোতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পাহাড়ের লাল ও ফসলি জমির মাঠি দিয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদা পারভীনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ৯টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩টি ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে। অভিযানের পর পরই এই সব ইট ভাটার স্থাপনা মেরামত করে ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। অপরদিকে পাহাড়ের লাল মাটি দিয়ে ইট প্রস্তুতের কারনে ৪ ইট ভাটা মালিককে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন ঘাটাইলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা ইয়াসমিন।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন ঘাটাইলে অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে ভ্রামামান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করেছে। কয়েকটি ইট ভাটার স্থাপনাও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।

উপজেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান সরকার বলেন, যাদের লাইসেন্স নবায়ন নেই তারা সকলেই নবায়নের জন্য আবেদন করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জেলা প্রশাসন ইট ভাটার লাইসেন্স প্রদান করেন। ঘাটাইলের অধিকাংশ ইটভাটাই পুরানো তাই বর্তমান আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারছে না। তাই নানা ভোগান্তির কারনে তারা আদালতের আশ্রয় নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করে ইটভাটা পরিচালনা করছে।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme