সংবাদ শিরোনাম:
গোপালপুর পুরাতন পৌর চত্বরে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দের মৃত্যুর ঘটনা কমাতে মহাসড়ক পারাপারের জন্য  রোপওয়ে  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসাইলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও সার বিতরণ  ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে মধুপুরে বাবা-ছেলেসহ চার গারোর মর্মান্তিক মৃত্যু ধনবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশ জনতা সোচ্চার: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইলে আন্ডারপাসের দাবিতে আশেকপুরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগের প্রাথমিকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত টাঙ্গাইলের শরীফা হক

আজ মির্জাপুরের দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা সহ সাতজন হত্যা রায়

  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯
  • ১১৪১ বার দেখা হয়েছে।

প্রতিদিন প্রতিবেদক মির্জাপুর : মুক্তিযুদ্ধের সময় মির্জাপুর কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা রণদাপ্রসাদ সাহা, তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাসহ সাতজনকে হত্যা তরা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় দীর্ঘ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) প্রদান করা হবে।

বুধবার (২৬ জুন) বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা, তাঁর ছেলেসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইলের মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা করা হয়। গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারী অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

২৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাঁর বিচার শুরু করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এক বছরের বেশি সময় পর বুধবার আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি রানা দাশগুপ্ত। আসামিপক্ষে ছিলেন গাজি এম এইচ তামিম।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের অগ্রপথিক দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন। তার জন্ম টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। আজীবন আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করেছেন তিনি।

টাঙ্গাইল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দাতব্য চিকিৎসালয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে তার গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে মুক্তিযুদ্ধের ময়দানে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছেন চিকিৎসা। পাকিস্থানী হয়েনাদের থাবায় আহত নির্যাতিত নিরীহ বাঙ্গালীদের খুজে খুজে এনে দিয়েছেন চিকিৎসা এবং আশ্রয়। এ কারনে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহাকে হত্যার পরিকল্পনা করে পাকিস্থানী হয়েনারা।

৭১ সালের ৭ মে স্থানীয় রাজাকার মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে রাজাকাররা হত্যাযজ্ঞ চালায় গোটা মির্জাপুরে। তারা সেদিন রনদাপ্রসাদ সাহাকে ধরতে আক্রমন করে তার বাড়ী ও হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে। তাকে ধরতে না পেরে রাজাকার বাহিনী জালিয়ে দেয় কয়েকটি গ্রাম। হত্যা করে বহু বাঙ্গালীকে।

রাজাকার মাহবুবুর রহমান ৭ মে মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিন্থানি হানাদার বাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্যকে নিয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাসায় অভিযান চালায়।

অভিযানে রণদা প্রসাদ সাহা, তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, রণদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব ও রণদা প্রসাদ সাহার দারোয়ানসহ সাতজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে সবাইকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তাদের মরদেহ আর পাওয়া যায়নি।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme