সংবাদ শিরোনাম:
গোপালপুর পুরাতন পৌর চত্বরে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দের মৃত্যুর ঘটনা কমাতে মহাসড়ক পারাপারের জন্য  রোপওয়ে  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসাইলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও সার বিতরণ  ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে মধুপুরে বাবা-ছেলেসহ চার গারোর মর্মান্তিক মৃত্যু ধনবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশ জনতা সোচ্চার: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইলে আন্ডারপাসের দাবিতে আশেকপুরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগের প্রাথমিকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত টাঙ্গাইলের শরীফা হক

মির্জাপুরে গণহত্যা দিবস পালিত

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯
  • ৮১০ বার দেখা হয়েছে।

প্রতিদিন প্রতিবেদক মির্জাপুর : দিন ব্যাপী নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে মির্জাপুর গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে।

১৯৭১ সালের ৭ মে এই দিনে টাঙ্গাইল জেলায় প্রথম গণহত্যা সংগঠিত হয় মির্জাপুর উপজেলা সদরের মির্জাপুর এবং আন্ধরা গ্রাম দুটিতে।

পাকবাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসররা গণহত্যা চালিয়ে এশিয়াখ্যাত দানবীর কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহাসহ ৩১ নিরপরাধ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল  ও সন্ধায় মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন ও কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ৭ মে শুক্রবার ছিল হাটের দিন। কেনা-বেচার জন্য ওইদিন কেউ বা হাটে গিয়েছিলেন কেউ বা আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আবার কেউ দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।

এমন সময় বেলা আনুমানিক পৌনে তিনটার দিকে পাকবাহিনীর ক্যাপ্টেন আইয়ূর এবং তাদের স্থানীয় দোসর মাওলানা ওয়াদুদের নেতৃত্বে পাকবাহিনীর একটি দল আকস্মিক লৌহজং নদীর পাশে মির্জাপুর ও আন্ধরা গ্রাম দুটিকে ঘিরে ফেলে।

এরপর যাকে যেখানে যে অবস্থায় পায় তাকেই পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে। বাড়ি ঘরে লুটপাট চালায়। এতে মূহুর্তের মধ্যেই সদা কর্ম চঞ্চল ও কোলাহলপূর্ণ গ্রাম দুটি বিরান ভূমিতে পরিণত হয়।

ঘাতকদের এই দলটিই সন্ধ্যার পর নারায়গঞ্জের বাসা থেকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা রবি এবং কর্মচারী গৌরপদ সাহাকে ধরে নিয়ে শীতলক্ষার পাড়ে হত্যা করে।

পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের এই হত্যাযজ্ঞে মির্জাপুর ও আন্ধরা গ্রামের নারী-পুরুষ শিশুসহ ৩১ জন নিরাপরাধ গ্রামবাসী শহীদ হন।

মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস জানান, টাঙ্গাইলের প্রথম গণহত্যার শিকার এই শহীদদের স্মরণে মির্জাপুরে আজও কোন স্মৃতি ফলক গড়ে উঠেনি।এদিকে দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধায় মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তির মঞ্চে মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করা হয়।

এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস, সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক, মির্জাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সকালে কুমুদিনী কমপ্লেক্সের আনন্দ নিকেতনে শহীদদের স্মরণে এক প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা ভাষা সৈনিক একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিভা মুৎসুদ্দি, কুমুদিনী ইউমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল হালিম ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme