সংবাদ শিরোনাম:
গোপালপুর পুরাতন পৌর চত্বরে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দের মৃত্যুর ঘটনা কমাতে মহাসড়ক পারাপারের জন্য  রোপওয়ে  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসাইলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও সার বিতরণ  ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে মধুপুরে বাবা-ছেলেসহ চার গারোর মর্মান্তিক মৃত্যু ধনবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশ জনতা সোচ্চার: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইলে আন্ডারপাসের দাবিতে আশেকপুরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগের প্রাথমিকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত টাঙ্গাইলের শরীফা হক

বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকরা কেন এমপিও চায়?

  • আপডেট : শনিবার, ৬ জুন, ২০২০
  • ১৪৯৯ বার দেখা হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি বিধি মোতাবেক অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষকরা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। বিধি মোতাবেক একজন শিক্ষকের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও ডিজি মহোদয়ের প্রতিনিধি উপস্থিতিতে প্রতিযোগীতা মূলক  লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পেয়ে থাকেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা ও সরকারি নীতিমালা মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কলেজ তহবিল হতে  শতভাগ বেতন -ভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রদানের লিখিত অঙ্গীকার করে সাবজেক্ট অধিভুক্ত করেন।

কিন্তু সারাদেশে মোট বেসরকারি কলেজের ৯০%  কলেজ কর্তৃপক্ষ  শিক্ষকদের বেতন ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে দিয়ে থাকে যা দিয়ে একজন শিক্ষকের পক্ষে জীবিকা নির্বাহ করা অসম্ভব। অনেক কলেজ এই সামান্য বেতন অপর্যাপ্ত তহবিলের অযুহাতে মাসের পর মাস  বন্ধ রাখে।

অথচ একটি বেসরকারি কলেজে অনার্সে ভর্তি হতে ৬ হাজার টাকা থেকে১২ হাজার টাকা লাগে। মাসে বেতন ৪০০ থেকে ১৫০০টাকা। তা ছাড়া, প্রতি বছর সেশন চার্জ দিতে হয় ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।

কলেজের সুনাম অনুযায়ী এ চার্জ ভিন্ন ভিন্ন কলেজে ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে।অনেক ছাত্রছাত্রী এই বিশাল ব্যয় বহন করতে না পারায় পড়াশোনা শেষ না করেই ঝড়ে পড়ে। কিন্তু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি’র চার নম্বর লক্ষ্যটি হচ্ছে শিক্ষাবিষয়ক।

এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আবার সাতটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।  সাতটি লক্ষ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সব ছেলেমেয়ে যাতে ফ্রি, বৈষম্যহীন ও মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত শেষ করতে পারে এবং নিশ্চিত করতে পারে পূণার্ঙ্গ শিক্ষা।

সারা দেশে ৩৫০ টি এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজে কর্মরত প্রায় ৫০০০ ননএমপিও অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক রয়েছেন।যাদের এমপিওভুক্ত করতে সরকারের বার্ষিক ১৪৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন।

১৯৯২ সাল থেকে অদ্যাবধি শুধুমাত্র জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত না করার কারণে এসকল শিক্ষক এমপিওভূক্তি হতে পারছেন না।কিন্তু একই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেখানে ইন্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রী (পাশ) শিক্ষকেরা এমপিওভূক্ত হতে পারেন।

অথচ শিক্ষানীতি ২০১০ -এর উচ্চশিক্ষা র কৌশলে বলা আছে যে, যেসব কলেজে ৩ বছর মেয়াদি স্নাতক (পাশ) কোর্স আছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান কোর্স চালু করা হবে এবং চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ডিগ্রিকে প্রান্তিক ডিগ্রি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মাদ্রাসা পর্যায়ে মাস্টার্স সমতুল্য কামিল শ্রেনির শিক্ষকরা এমপিও ভুক্ত হচ্ছে কিন্তু অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকরা এমপিও ভুক্ত হতে পারছেনা। এক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকরা।

নোভেল করোনা ভাইরাসের কারনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকরা।বর্তমানে অর্ধাহারে অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবতর জীবনযাপন করছে।

এমতাবস্থায় “জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮” সংশোধন পূর্বক ৫০০০ শিক্ষক কর্মচারীর এমপিও ভুক্তির জন্য জন্য বাৎসরিক ১৪৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হতে পারে বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ প্রণোদনা। 

মোঃ রফিকুল ইসলাম
প্রভাষক – হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ, টাংগাইল।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme