সংবাদ শিরোনাম:
গোপালপুর পুরাতন পৌর চত্বরে খানাখন্দে বেহাল সড়ক, মধুপুর বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী দের মৃত্যুর ঘটনা কমাতে মহাসড়ক পারাপারের জন্য  রোপওয়ে  গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসাইলে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চারা, বীজ ও সার বিতরণ  ছাগলছানা উদ্ধার করতে গিয়ে মধুপুরে বাবা-ছেলেসহ চার গারোর মর্মান্তিক মৃত্যু ধনবাড়ীতে মাদক অভিযানে পুলিশ জনতা সোচ্চার: নিয়মিত অভিযান অব্যাহত টাঙ্গাইলে আন্ডারপাসের দাবিতে আশেকপুরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগের প্রাথমিকে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত টাঙ্গাইলের শরীফা হক

সরকারের দেওয়া আশ্রায়ণের ঘর নিয়ে বিপাকে ভিক্ষুকপুত্র

  • আপডেট : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২২
  • ৩৭৭ বার দেখা হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভায় সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের (খ শ্রেণি) ঘর পেয়েও সেখানে বসবাস করতে পারছেন না স্থানীয় রতন শেখ নামে এক ব্যক্তি। প্রতিবেশি জমির মালিকরা সরকারের দেওয়া ঘরের অর্ধাংশ জুড়ে দেওয়াল নির্মাণ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ভূঞাপুর পৌরসভার রতন শেখ নাবালক থাকাবস্থায় তার বাবা জুলহাস শেখ মৃত্যুবরণ করেন। তার মা খুকি বেওয়া ভিক্ষাবৃত্তি করে টাকা জমিয়ে পশ্চিম ভূঞাপুর মৌজার বিআরএস দাগের ৩.৫০ শতাংশের কাতে ২ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন। সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের (খ শ্রেণিভুক্ত) আওতায় রতন শেখকে একটি কাঁচাপাকা ঘর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় ওই ২ শতাংশ ভূমি খুকি বেওয়া তার ছেলে রতন শেখকে হেবা দলিলমূলে রেজিস্ট্রি করে দেন। সেলক্ষে ওই ভূমিতে সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি কাঁচাপাকা ঘর নির্মাণ করে রতন শেখকে হস্তান্তর করে।
ওই জমির উত্তর পাশের প্রতিবেশি জনৈক বাবু তালুকদার তার ২৪ শতাংশ ভূমি পরিমাপ করে দেওয়াল নির্মাণ করেন। প্রতিবেশির দেওয়ালটি রতন শেখকে দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের অর্ধাংশ জুড়ে দখল হয়ে যায়। এতে সরকারের দেওয়া ওই ঘরে বসবাস করা রতন শেখ ও তার মায়ের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোন সুরাহা হয়নি।

স্থানীয় তোফাজ্জল তরফদার, খোকা শেখ, আছমা বেগমসহ অনেকেই জানান, প্রতিবেশি একটি ধনাঢ্য পরিবারের কারণে একটি ভিক্ষুক পরিবার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েও বসবাস করতে পারছেনা। এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়, মাতব্বরদের নিয়ে এলাকায় সালিশ হলেও কোন সমাধান হয়নি।
রতন শেখ জানান, তার মা বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে ভূমিটুকু কিনেছিলেন। সরকার তাকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দিলেও তিনি ব্যবহার করতে পারছেন না। তিনি পৌরসভা সহ স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বার বার ঘুরেও কোন সুফল পাননি। জমির চারপাশে দেওয়াল নির্মাণকারী প্রতিবেশী বাবু তালুকদার জানান, রতন শেখ একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হলেও তার মা খুকি বেওয়া একজন ভিক্ষুক। তিনি সরকারের দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের অর্ধাংশ জুড়ে দেওয়াল নির্মাণ করেন নি। পরিমাপ করায় জমির সীমানা রতনের ঘরের অর্ধাংশ পর্যন্ত গিয়েছে। পরিমাপে যদি রতন শেখ জায়গা পান তাহলে অবশ্যই তিনি নিজ খরচে দেওয়াল ভেঙে সরিয়ে নেবেন।

ভূঞাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর মো. শাহিনুজ্জামান শাহীন জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের রতন শেখের ঘরের অর্ধাংশ জুড়ে প্রতিবেশির দেওয়াল নির্মাণের বিষয়ে কয়েকবার ঘরোয়া বৈঠক হয়েছে। জমির পরিমাপগত ত্রুটির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পুন;পরিমাপ করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ইশরাত জাহান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। ভুক্তভোগী যদি প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন তাহলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

খবরটি শেয়ার করুন:

আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়।
Customized BY NewsTheme